পারভেজ সরকার,সিরাজগঞ্জ : সলংঙ্গার কেসি ফরিদপুরে নদী পাড়াপাড়ের ব্রীজ না থাকায়, বাঁশের সাঁকো ও নৌকায় একমাত্র ভরসা। সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার নদী বেষ্টিত নলকা ইউনিয়নের দাদপুর জি আর ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন কেসি ফরিদপুর সংযোগ সড়কের ফুলজোর নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মানের জন্য নদীর দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী আজও আলোর মুখ দেখেনি। এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের এ দাবীর বাস্তবায়ন না হওয়ায় নদী পারাপারের ক্ষেত্রে নদীর এপার-ওপারের মানুষের জন্য বাঁশের সাঁকো আর খেয়ার নৌকাই হচ্ছে একমাত্র ভরসা।

প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ দু-পাড়ের মানুষ শুকনো  মৌসুমে নদী পারাপার হয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে আর বর্ষার সময় পারাপার হয় খেয়ার নৌকায়। এমনকি কৃষিপণ্যসহ নানা ধরণের পণ্য পরিবহন করতে না পারায় কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না কৃষকরা ।

দুর্ভোগ পোহাতে হয় বাজার থেকে ভারী পণ্য বাড়ীতে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রেও। এতে প্রতিনিয়তোই তাদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

বাঁশের সাঁকো আর খেয়ার নৌকা ছাড়া নদীর পুর্ব পাড়ের বাসিন্দাদের যাতায়াতের বিকল্প কোন পথ না থাকায় অতি কষ্টে তারা প্রয়োজনের তাগিদে নদী পারাপার হয়। এভাবে হাজার-হাজার মানুষ বছরের পর বছর শুকনো মৌসুমে সাঁকো আর বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়েই চলাচল করে আসছে। নদী পারাপারের ক্ষেত্রে দুঃখ-কষ্ট যেন তাদের নিত্যসঙ্গি। বিশেষ করে বেশী কষ্ট পোহাতে হয় বর্ষার সময়। বর্ষার সময় বাঁশের সাঁকো তলিয়ে গেলে খেয়ার নৌকায় তাদের পারাপার হতে হয়। আর সেই নৌকার জন্য নদীর পাড়ে তাদের ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়,বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে যাওয়ায় এবং নদীতে পানি আসায় খেয়ার নৌকার গুণ টেনে নদী পারাপার হচ্ছেন স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ নদী পাড়ের মানুষ ও পথচারীরা।

একটি ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে কবে দুর হবে নদী পাড়ের মানুষের দুঃখ-কষ্ট তা তারা কেউই বলতে পারেনা। আদৌ তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হবে কিনা তা নিয়েও সন্দীহান এপার-ওপার দুই পাড়ের বাসিন্দারা। তবে তারা এখনো হতাশ হননি। আশায় বুক বেঁধে এমনটাই প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন হয়তো বা তাদের দীর্ঘ দিনের দাবী একদিন বাস্তবায়িত হবে।

ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের সংযোগ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সাহেবগঞ্জ জিআর কলেজ থেকে অতিবাহিত কেসিফরিদপুর,কাঁঠালবাড়ীয়া,বোয়ালিয়ারচর,এরান্দহ, গ্রামপাঙ্গাসী,হাটপাঙ্গাসী ও কৃষ্ণদিয়ার এলাকার মানুষের যাতায়াতের রাস্তার সাহেবগঞ্জ জিআর কলেজ থেকে কেসিফরিদপুরের মাঝে ফুলজোড় নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে স্বপ্নের মতো অত্রাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবীর সফল বাস্তবায়ীত তাদের আশা-আকাঙ্খার বাস্তব  প্রতিফলন ঘটবে।

বিগত সকল সরকারের সময়ে এই জায়গায় ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রæতি দেয়া হলেও তা কখনোই আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি যখনই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসে তখনই শুধু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ফুল ঝুঁড়ির মতো প্রতিশ্রæতি দেওয়া হয় কিন্তু দুঃখজনক ভাবে সত্যি পরে যে দলই ক্ষমতায় যায়না কেন, তারা সে সব প্রতিশ্রæতির কথা ভুলে যায়।

সরজমিনে গেলে,দুর্ভোগ আর দূর্গতির কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন,নদীর পুর্বপাড়ের বাসিন্দা কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান,কেসি ফরিদপুর গ্রামের আনিছুর রহমান,রফিকুল ইসলাম,আশরাফুল ইসলাম,রোজিনা খাতুন,কল্পনা খাতুন,কেসি ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র আরিফুল ইসলাম,তানভীর ও মনিরুল  ইসলাম। এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম দুঃখ করে বলেন বাপ-দাদার পাশাপাশি আমাদের ও বর্তমান প্রজন্মের জীবন কেটে গেলো বাঁশের সাঁকো আর নৌকা করে নদী পাড় হয়ে। আমরা জানি না আগামী প্রজন্মরা কি তাদের জীবনদশায় এই ঘাটে একটি সেতু কিংবা ব্রীজ দেখতে পাবে? দেশে বর্তমানে ডিজিটাল উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত হলেও একটি ব্রীজের অভাবে এখনো পিছিয়ে রয়েছে এই জনপদের জীবন মান। এই অঞ্চলে এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিকতার কোন ছোঁয়াই স্পর্শ করেনি। 

এ বিষয়ে নলকা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আব্দুস সাত্তার সরকার বলেন-আমাদের বর্তমান সংস্যদ সদস্য ডাঃ আব্দুল আজিজ এমপি মহদয়ের সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে,তিনি জানিয়েছেন অল্পদিনের মধ্যই ব্রীজের কাজের টেহুার হবে।এ ব্রীজটি হলে আত্র এলঅকার মানুষের জীবনমানের সার্বিক উন্নতি হবে।

যার কারণে প্রতিনিয়তই থমকে যাচ্ছে এই অঞ্চলের কৃষকসহ হাজার হাজার মানুষের অর্থনৈতিক চাঁকা। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে ৩ থেকে ৪হাজার মানুষ চলাচল করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ছাড়াও শত শত শিক্ষার্থীদের এই ঘাট দিয়েই অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। তবে বর্তমান সরকার তাদের দুঃখ-কষ্ট দুর করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য ত্বরিৎ পদক্ষেপ গ্রহন করবেন এমনটাই দাবি করছেন নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here